You are here: Home / অনুভূতি / আমার দ্বিতীয় জীবন: একটি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা

আমার দ্বিতীয় জীবন: একটি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা

আমার জন্ম পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার এক গ্রামে। ৭০ এর ১২ নভেম্বরের রাতের ঘূর্ণিঝড়ে সারা দেশে ৫ লাখের মত মানুষ মারা গিয়েছিল। আমাদের বাড়িতেই মারা গিয়েছিল ৬/৭ জন, আর গোটা গ্রামের কয়েকশ। তখন উপকূলে এত সাইক্লোন শেল্টার ছিলো না। গ্রামের অনেক বাড়িঘর ভেসে গিয়েছিল, অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ার কারণে অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল আমাদের বাড়িতে। আমার বয়স তখন দেড় বছর। জলোচ্ছাসের তোড়ে কয়েকজন মহিলার কোল থেকে তাদের শিশু সন্তানরা ভেসে গিয়েছিল। ওই অবস্থায় আম্মা আমাকে সামলাতে পারছিলেন না দেখে এক সময় আমার একমাত্র চাচা আম্মার কোল থেকে আমাকে নিয়ে নেন। কিন্তু আম্মার ধারণা ছিলো আমিও ভেসে গেছি এবং একমাত্র সন্তানের শোকে তিনি তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

Zharআমার বেঁচে থাকাটা কিছুটা অলৌকিক। চাচা তাঁর বুকের সাথে আমাকে গামছা দিয়ে বেঁধে নারিকেল গাছের মাথায় উঠে সারারাত পার করেন। নভেম্বরের শীত, রাতভর বৃষ্টি, প্রবল বাতাস আর সর্বোপরি জলোচ্ছ্বাস-এতসব প্রতিকূলতা মাথায় নিয়ে দেড় বছরের একটা শিশু নারিকেল গাছের মাথায় যে বেঁচে থাকবো-এটা চাচা কল্পনাও করেননি, তিনি ভেবেছিলেন আমি তার কোলেই মারা গেছি। ভোরবেলা ঝড় থামার পর আমাকে যখন মায়ের কোলে ফেরত দেয়া হয়, তখন আমার এবং মায়ের দুজনেরই চেতনা ফিরে আসে। সেই থেকে আমি এবং আমার মা-আমরা দু’জনই এখনো বেঁচে আছি।
চাচার কোলে আমি বেঁচে থাকলাম, আর আমার বাবার কোলে ছিলো পাশের বাড়ির দু’বছরের এক শিশু। তারা দু’ভাই সেদিন অন্তত আমার মত দু’টি শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন। সেই চাচা আজ ইহজগতে নেই। তাঁর নাম ছিল দেলোয়ার হোসেন, আমি ডাকতাম কাক্কু।
আজ এই মহাসেনের দুর্যোগকালে তাঁকে খুব মনে পড়ছে, যিনি আমার পিতার অধিক পিতা।

Z.I Mamunঅনুভূতি লেখক : জ.ই. মামুন, হেড অব নিউজ, এটিএন বাংলা।
রচনা ও প্রকাশকাল: ১৫ মে ২০১৩
যোগাযোগ: এটিএন বাংলা ভবন, ঢাকা। মোব: ০১৭১৩০৬১০…


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top