You are here: Home / অনুভূতি / মদীনার একটি যুবকের গল্প

মদীনার একটি যুবকের গল্প

Taysir Mahmud (Modinar Akti Juboker Golpo)৬ দিন মক্কায় থাকার পর আজ সন্ধ্যায় মদীনায় পৌছলাম। মসজিদে নববীর ১৭নং গেইটের একেবারে কাছাকাছি আমাদের হোটেল ইলাফ তাইবা। হোটেল থকে বের হয়ে হারামের গেইটে পৌছতে সর্বসাকুল্যে একমিনিট সময় লাগে। কাছাকাছি হোটেল হওয়ায় মনটি আনন্দে ভরে উঠলো।
মদীনায় হারাম শরীফের কাছাকাছি পৌছে আমাদের গাড়ি ড্রাইভার সহজে হোটেলটি খুজে পাননি। এ সময় মসজিদে নববীতে এশার জামাত চলায় আশ-পাশের সকল রাস্তা সাময়িক বন্ধ ছিলো। তাই হোটেলটি খুঁজে বের করতে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়।
এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার একজন আরবীর কাছে জানতে চাইলেন-আইনা ফন্দুকে ইলাফ তাইয়েবা (ইলাফ তাইবা হোটেলটি কোন দিকে)? জবাবে আরবী ব্যক্তিটি অত্যন্ত ভদ্রতার সাথে ইয়া সাদিকী সম্বোধন করে রাস্তাটি দেখিয়ে দিলেন। আমরা তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী অনায়াসে হোটেল পৌছলাম।
হোটেলে এসে লাগেজ রেখে খাবার আনতে বের হলাম। সাথে আমার ছেলে জিবরিল ও মেয়ে সারাহ। ওদের জন্য ম্যাকডনাল্ডের সন্ধান করছি। পথিমধ্যে একজন আরবী যুবকের সাথে দেখা। ইংরেজীতেই জিজ্ঞেস করলাম-এখানে কোথাও ম্যাকডনাল্ড আছে কী?
যেহেতু আবরী যুবকটি ইংরেজী বুঝেন না তাই তাঁকে ইশারা ইংগিতে বুঝানোর চেষ্টা করলাম। এতেও তিনি বুঝলেন না। তবে এতে করে তাঁর মধ্যে কোন বিরক্তিবোধও লক্ষ্য করলাম না। বরং তিনি কাছাকাছি থাকা তাঁর এক ফ্রেন্ডকে ডাকলেন। বললেন ইংলিশ, হেল্প। বন্ধুটি আমাদের বললেন, ২৫নং গেইটের সামনে ম্যাকডোনাল্ড আছে। তবে এখন সম্ভবত বন্ধ হয়ে গেছে। আপনারা বরং কেএফসি খেয়ে নেন। এটা কাছাকাছি আছে। আমরা তার কথামতো কেএফসি কিনে হোটেলে ফিরলাম।
মক্কায় থাকাকালে একদিন পবিত্র হারাম শরীফের একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ইংলিশে জানতে চেয়েছিলাম, এখানে কি কোন ইনফরমেশন সেন্টার আছে? জবাবে তিনি খুব বিরক্তির সুরে বলেছিলেন-মাফি ইংলিশ। আর কোন কথাই বলেননি। মক্কায় বিভিন্ন সময় রাস্তা-ঘাটে চলতে গিয়ে আরবী, বাঙালি, পাকিস্তানী অনেকের কাছে একটু আধটু তথ্য জানতে চেয়েছি। কিন্তু সকলের জবাব বা আচরণ ছিলো অভিন্ন। আরবী ব্যক্তি হলে বলেছেন, ইংলিশ মাফি, বাঙালি হলে বলেছেন, এ দিকে-সেদিকে, অথবা কেউ কেউ আতর বিক্রির চেষ্টা করেছেন আর পাকিস্তানী হলে টেক্সিতে বেশি ভাড়া আদায় করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মদীনায় এসে মানুষের ব্যবহার ও শান্ত-শিষ্ট, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে মনটি ভরে উঠে।
আজ বাস্তবে প্রমাণ পেলাম মদীনার মানুষ সত্যিকার অর্থেই অতিথিপরায়ন। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) যখন তাঁর নিজ জন্মভুমি মক্কা শহর ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হন তখন এই মদীনার শান্তিপ্রিয় মানুষই তাঁকে হৃদয় উজাড় করে বরণ করে নিয়েছিলেন। আজ মদীনার রাস্তায় যে যুবকটি আমাদের কেএফসি খুঁজে বের করতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেন তিনিতো হতে পারেন এমন একজন মদীনাবাসীর বংশধর যিনি আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে আল্লাহর রাসুলকে মদীনায় স্বাগত জানিয়েছিলেন। রাসুলের আগমনে আনন্দ-উদ্বেলিত হয়ে গেয়েছিলেন, ‘তালায়াল বাদরু আলাইনা। মিন সানিইয়াতিল ওয়েদাই …’।
Taysir Mahmudঅনুভূতি লেখক: তাইসির মাহমুদ, সাপ্তাহিক নতুন দিন, লন্ডন।
রচনাকাল: ১ মে, ২০১৪
যোগাযোগ: ৪৪২০৭২৪৭৬২৮০, fb.com/taysir.mahmud


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top