You are here: Home / অনুভূতি / বিধাতার অকৃপণ দান নিয়েছিলাম, চুরি করিনি

বিধাতার অকৃপণ দান নিয়েছিলাম, চুরি করিনি

Wajed Ali Badsha (Bidhatar Dan Niechelam):: ওয়াজেদ আলী বাদশা ::

আমাদের গ্রাম থেকে ৩ কিলোমিটারের দুরত্বে যে গ্রাম, তার নাম ত্রিবেণী। ব্রাহ্মণ থেকে শুরু করে ধোপা, নাপিত এমনকি বারবণিতাদের আবাস ছিল এই গ্রামে। ছিল বলছি এজন্যে যে, এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস খুবই কম। কেন কম তার ফিরিস্তি এখানে দিচ্ছি না, তবে তাদের ভিটে-মাটি ছাড়া করার জন্য দায়ী ছিল মুলত জাসদ। শ্রীকান্ত খ্যাপার আশ্রম ছিল এ গ্রামেই। খ্যাপা কবে জন্মেছেন লোকজন জানে না। শতবর্ষ অনেক আগেই পার করেছেন বলে সবাই জানে। তার বয়স নিয়ে একটা মিথ সমাজে চালু আছে। চৈত্র সংক্রান্তিতে এখানে বিশাল আড়ং (মেলা) হয়। সারা বছর ধরে ছেলে-মেয়েরা পয়সা জমা করে এই আড়ং থেকে কিছু কিনবে বলে। রং-বেরঙের পুতুল থেকে শুরু করে কাঠের ফার্নিচার, রান্না-ঘরের জিনিসপত্র সবই বেচা-কেনা হয় এখানে।
আমি দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। আড়ং-এ যাব বলে দুপুরে না খেয়েই বেড়িয়ে পড়েছি। অনেকের সাথে দলবেঁধে মেলায় এসেছি। আমার সেই দিনের পুঁজি একটা আধুলি মানে আটআনা। কোন্টা বাদে কোন্টা কিনি হিসাব মেলাতে পারছি না। প্রচ- ভীড় আর গরম। অনেকক্ষণ পর আমার হাফপ্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখি পয়সা নেই। আমি আরো বেশি করে ঘামতে থাকলাম। কতজনকে আধুলির কথা বললাম কেউ সাড়া দিল না। আমি অনবরত কেঁদে চলেছি। আমার চোখের সামনে সারি সারি মিষ্টি, পুতুল, রঙিন হাড়ি। একটা লাল বল আমার খুউব পছন্দ হয়েছিল। কিনতে পারলাম না। হাড়িতে মিষ্টি সাজিয়ে মাকে দেখাবো। তা আর হলো না।
উত্তর-পশ্চিম আকাশে মেঘ জমল। কয়েকবার বিজলির চমকানি দিয়েই ঝড় শুরু হল। দোকানিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচ- বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাস। আমি একটা আমগাছের গোড়ায় আশ্রয় নিয়েছি। কোন দোকানিই মালপত্র গোছাতে পারেনি। সবাই প্রাণ বাঁচাতে পাশের বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। গাছের ডাল ভেঙে পড়ছে। দোকানের ছাউনিগুলো তাসের মত উড়েতে লাগলো। হঠাৎ দেখি লাল বলের একটা বড় প্যাকেট আমার পায়ের কাছে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমি পরম মমতায় তুলে নিলাম। ১০ থেকে ১২টা বল হবে। একটা বল কিনতে পারিনি আর এখন এতগুলো বল আমাকে দিয়ে দিল। রঙিন হাড়ি গড়িয়ে যাচ্ছে আমি তুলে নিলাম আর ঝড়ের মধ্যেই বেড়িয়ে পড়লাম। মিষ্টির দোকানের উপর দিয়ে পানির ¯্রােত বয়ে যাচ্ছে। হাড়ি ভর্তি করে মিষ্টি নিয়ে নিলাম। প্রবল বাতাসের বিপক্ষে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে থাকলাম।
কে যেন আমাকে বললো, এবার যা। তোর আটআনা ফেরত দিলাম। আমি মেলা প্রাঙ্গন ছেড়ে এখন গ্রামের রাস্তায়। সেদিন আহত হতে পারতাম। তিনিই রক্ষা করেছেন। আমার মনের কষ্ট লাঘব করেছেন। আর নিজ হাতেই দিয়েছেন সবকিছু।

Wajed Ali Badsha (Photo)অনুভূতি লেখক: ওয়াজেদ আলী বাদশা
শিক্ষক, খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ।
রচনা ও প্রথম প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০১৬।
যোগাযোগ: fb.com/wazedali.badsha


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top