You are here: Home / অনুভূতি / টুনটুনি আমার প্রথম পাপ, হয়তো বা শেষ প্রায়শ্চিত্ত

টুনটুনি আমার প্রথম পাপ, হয়তো বা শেষ প্রায়শ্চিত্ত

আমিরুজ্জামান আমির বাবু: আমি তখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। মাটির গুলি বানিয়ে রোদে শুকিয়ে চুলার আগুনে পুড়ে বানাতাম গুলতিবাসের পাখি শিকারের অস্ত্র। ওই সময় স্কুল বন্ধ থাকতো রবিবার। একদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে গুলতিবাস দিয়ে মেরে ফেললাম একটি টুনটুনি পাখি।
imageযখন পাখিটি বাসায় নিয়ে ফিরলাম তখন হাবিবা ফুপু বলেছিলেন, তুই যে ওকে মারলি ওর মা-বাবা ওকে খুঁজবে না? মন ভার হতে লাগলো, চোখের কোণে পানি এলো। ওর মা-বাবা যেন খুঁজে পায় তাই পাখিটির বাসা যে গাছে সেখানে রেখে দিলাম। বারবার খোঁজ নিলাম, ওর বাবা-মা এলো কি না ? আসলে মৃত্যু কি জিনিস তা তখনও অনুভূতিতে আসেনি! ফুপু আবার বললেন, পাখিটা কবর দিবি না? কবর দিলাম। পাটখড়ি দিয়ে বেড়া দিলাম। রাত ৮টা পর্যন্ত পাহারা দিলাম। রাতে কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেলাম।
ওই থেকেই জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য বুঝতে শিখলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে আরও একটি কষ্ট ও বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছিল, তা হলো কবরের কাছে গিয়ে দেখি রাতে শেয়াল, বেঁজি বা অন্য কোন নিশাচর প্রাণী পাখিটাকে নিয়ে গেছে। ওইদিন জীবহত্যা করে যে প্রথম পাপ আমি করেছিলাম, তার প্রায়শ্চিত্ত করলাম জীবনে আর শিকারে না গিয়ে।
হে বিদেহী আত্মার টুনটুনি তুই পারলে আমায় ক্ষমা করে দিস। আর মাফ না করলে পথ চেয়ে রইলাম শেষ বিচারের প্রায়শ্চিত্তের আশায়।
মাদারীপুর পৌরসভার ফুলবাগান থেকে আমার একজন অতিপ্রিয় মানুষ সচিব খোন্দকার আহমেদ ফিরোজের তোলা টুনটুনির ছবিটি দেখেই আমার আবেগ-অনুভূতিতে নাড়া দিলো স্মৃতিময় মনটি।

imageরচনা ও প্রকাশকাল: ১৭ জুন ২০১৫, ৩ আষাঢ় ১৪২২
অনুভূতি লেখক: আমিরুজ্জামান আমির বাবু, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠক।
যোগাযোগ: মাদারীপুর ক্রিকেট ক্লিনিক, মাদারীপুর।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top