You are here: Home / অনুভূতি / চোখের সামনেই বাবা ও হাতিকে গুলি করে পাকবাহিনী

চোখের সামনেই বাবা ও হাতিকে গুলি করে পাকবাহিনী

অরুন কুমার দাস:
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী গুলি করে হত্যা করে আমার বাবা সার্কাস মালিক লক্ষ্মণ দাসকে।
মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে আমি আর বাবা উঠানে দাড়ানো ছিলাম। পাক বাহিনী অতর্কিত আমাদের বাড়ি আক্রমণ করে। আমার বাবা ব্যাংকে টাকা রাখতেন না, বাবা বলেছিলেন টাকা-পয়সা ও স্বর্ণ-গহনা মাটিচাপা দিয়ে রাখতে। পাক বাহিনী আক্রমণ করার পর তিনি টাকা ও সোনার গহনা ভর্তি স্যুটকেস নিয়ে দৌড় দিয়েছিলেন। আমি গিয়ে বাড়ির পাশে হিজল গাছের ডালে উঠেছি। বরিশালের কোদালধোঁয়া এলাকায় আর্মি ছিল, পাকবাহিনী স্পীডবোটে এসেছিল। পাক বাহিনী বাবার বুকের দিকে গুলি করেছে। এ সময় হাতির মাথায় গুলি করে ওরা। হাতি ও বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করে বাড়ি লুট করে পাক বাহিনী।
এরপর ভারতে চলে যাই। যুদ্ধ শেষ হলে সেখান থেকে ছোট একটি ভাল্লুক, বানর ও কুমিল্লা থেকে একটি হাতি কিনেছিলাম। ওই সময় বাবার পূর্ব পরিচিত নেছা হাওলাদার ও খালেক হাওলাদার ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা বলে শেষ করা যাবে না। এরপর অনেক কষ্ট করে সার্কাসটিকে আবার দাড় করাই।
বর্তমানে ১টি হাতি, ৫টি হরিণ, ৩টি বাঘ, ২টি ভাল্লুক ও ৮টি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে সার্কাসে। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে এগুলোও বাঁচিয়ে রাখা কষ্টকর। সার্কাসের পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের বেতন নিচে দেড় হাজার উপরে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতন আছে। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানের অনুমতি না পাওয়ায় দিনে দিনে সার্কাস শিল্প ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আর দশ বা বারো বছর এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। আমার পরে হয়তো আমার পরিবারের কেউ সার্কাস ধরে রাখতে পারবে না।
পাকিস্তান আমলে একমাত্র আমিই একমাত্র ব্যক্তি গ্লোব অর্থাৎ বড় আকৃতি গোলকের মধ্যে মোটরসাইকেল চালাতে পারতাম। এখন অনেকেই গোলক বা মৃত্যুকূপের মধ্যে মোটরসাইকেল খেলা দেখাতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ জন পাকবাহিনীর সাথে ২ জন রাজাকার এসেছিল। এদের মধ্যে একজন আব্দুস সালেক, খুলনায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করছে। পাকবাহিনীর সাথে গৌরনদী স্পেশাল দারোগাও ছিল। সে দেশে গিয়ে আমার বাবা খুন করেছে করে গর্ব করে সবাইকে বলতো। আমার বাবার হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি স্বাধীনতার এত বছর পর দুঃখ এটাই।

অনুভূতি: অরুন কুমার দাস, সার্কাস মালিক, দি লক্ষ্মণ দাস সার্কাস, বরিশাল।
অনুলিখন: জহিরুল ইসলাম খান, রচনাকাল: ২০১১ইং মাদারীপুর।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top