You are here: Home / অনুভূতি / মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন

জয়গোপাল ঠাকুর:
মুক্তিযুদ্ধে বিজয় যখন দ্বারপ্রান্তে তখন একদিন পাকবাহিনী ও তার দোসরদের হাতে শহীদ হন মিঠাপুর এলাকার শতাধিক মানুষ। অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত পাকবাহিনীকে রাজাকাররা পথ চিনিয়ে নিয়ে আসে মিঠাপুরের শিকদার বাড়িতে। সেই সময় পাকবাহিনীর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি আমার বাবা নিত্যগোপাল ঠাকুর। বর্তমানে বুক ও পিঠে গুলি ও বেয়নেটের ক্ষত চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন।
বাবা জানিয়েছেন, সেইদিন শিকদার বাড়ি ও আশ-পাশের প্রায় শতাধিক মানুষকে লাইনে দিয়ে দাড় করিয়ে গুলি করা হয়। বাম হাতে গুলি লাগার পর পরই তিনি পড়ে যান। পরবর্তীতে তার পিঠে বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পিঠে আঘাত করা বেয়নেট শরীর ভেদ করে শরীরের অপরদিক পেট ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এ অবস্থায় মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। সেই ভয়াল স্মৃতির কথা মনে আজও তিনি শিহরিত হয়ে ওঠেন। সেই সময় শারীরিক ও আর্থিক অবস্থা অনেক ভাল ছিল। যুদ্ধের সময় বাড়ি-ঘর ও ধন-সম্পত্তি ছেড়ে পালিয়ে পালিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এক সময় পারিবারিক ঐতিহ্য ছিল, ছিল ধন-সম্পদের প্রাচুর্য্য। যুদ্ধের সময় লুট হয় বাড়ির টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কারসহ সমস্ত সম্পত্তি।
আমরা দেশের কাছ থেকে কিছু পাওয়ার আশাও করি না। অনেকে আছে মুক্তিযুদ্ধ না করেও সার্টিফিকেট পেয়েছেন; মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। গুলি ও বেয়নেটের আঘাতের পরও আমার বাবা নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে এসেছেন। তার কথা বর্তমান প্রজন্মের কেউ জানে না। তার নেই কোন স্বীকৃতি। আমার বাবা কি কোন ধরণের স্বীকৃতি পেতে পারে না?

অনুভূতি: জয়গোপাল ঠাকুর, নির্যাতিত নিত্যগোপাল ঠাকুরের ছেলে, মিঠাপুর, মাদারীপুর।
অনুলিখন: জহিরুল ইসলাম খান। রচনাকাল: ২০০৪ইং।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top